বিজ্ঞাপন
আজ : ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সোমবার প্রকাশ করা : জুলাই ৫, ২০২১

  • কোন মন্তব্য নেই

    যন্ত্র-যন্ত্রপাতি সবই আছে, নেই শুধু জনবল

    বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আলট্রাসনোগ্রাফি, এক্সরে, এনেস্থিসিয়া এবং জিন এক্সপার্ট মেশিনসহ আছে সব ধরনে যন্ত্রপাতি। কিন্তু জনবলের অভাবে বাবা হারা সন্তানের মতো পড়ে আছে নিথর এই মেশিনসহ যন্ত্রপাতিগুলো। দেখে মনে হবে তাদেরকে দেখাভাল করার জন্য কেউ নেই।

    জিন এক্সপার্ট মেশিনের কথা যদি বলা হয় কমপ্লেক্সে বর্তমানে শুধু যক্ষা পরীক্ষাই চলছে এই মেশিনে তাও ব্রাকের কর্মীর সহায়তায়। অত্র হাসপাতালে এমন কোন দক্ষ লোক নেই যে এই মেশিন চালিয়ে পরীক্ষা করবে। অথচ এই জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে বহুমূখী কাজ করা যায় যার মধ্যে করোনার আরটিপিসিআর পরীক্ষা বর্তমান সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে দেশের অনেক সেন্টারে এই মেশিন দিয়ে করোনা পরীক্ষা চলছে। একজন দক্ষ জনবল দিয়ে যদি কমপ্লেক্সের এই মেশিনে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়াসহ মোট ৫টি উপজেলার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দিনে দিনে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী। বর্তমানে করোনা পরীক্ষার জন্য লামাসহ এই ৫ উপজেলা কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

    আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনের কথা যদি বলা হয় লামা উপজেলার একমাত্র আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন যেটি বর্তমানে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। এই উপজেলায় কোন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালও নাই। কিন্তু লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল না থাকায় এই আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনও অচল অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে রোগীরা আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার জন্য ভীড় জমাচ্ছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে। যেখানে সরকারী হাসপাতাল হিসেবে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি করা যাবে সেখানে অত্র উপজেলার একজন রোগীর অন্য উপজেলায় গিয়ে যাতায়ত ভাড়াসহ প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়াও এই পরীক্ষার জন্য সারাটি দিন চলে যায় একজন রোগীর।

    ঠিক একই রকমভাবে এক্সরে, এনেস্থিসিয়া মেশিনের জনবলও নেই এই হাসপাতালে। এভাবে যদি চলতে থাকে মেশিনগুলো নষ্ট হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান মোহাম্মদ।

    এই ব্যাপারে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী বলেন, যদি জনবল দিয়ে এই মেশিনগুলো সচল রাখা যায় তাহলে পার্শ্ববর্তী ৫ উপজেলার উপকারে আসবে। বিশেষ করে জিন এক্সপার্ট, আলট্রাসনোগ্রাফি, এক্সরে ও এনেস্থিসিয়া মেশিন। আলট্রাসনোগ্রাফিতে একজন মহিলা ডাক্তারকে দ্বায়িত্ব দিয়েছিলাম। দুই মাস চালানোর পর বদলীজনীত কারনে ঊনি চলে গেলে আবারো মেশিনটি অচলাস্থায় পড়ে থাকে। চেস্টা করছি একজন ডাক্তারকে আবারো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করতে। এক্সরে মেশিনে একজন রেডিওগ্রাফারের খুবই প্রয়োজন। উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে খÐকালীন একজন রেডিওগ্রাফার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এলাকার সুবিধার্থে কমপ্লেক্সের সকল জনবল সরকারীভাবে নিয়োগ দেওয়া খুবই জরুরী।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *